দর্শন
হোয়াট আই বিলিভ
POSTED ON Nov 16, 2021

বইটি মূলত নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার। গত ২০ বছরের বেশি সময় ধরে আমি যেসব মৌলিক ধারণা (Basic Idea) সমর্থন করে আসছি, এটি তার একটি সুচিন্তিত ও বোধগম্য উপস্থাপনা। এটি তাদের জন্য, যাদের হাতে খুব বেশি সময় নেই। যেমন : সাধারণ নাগরিক, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও শিক্ষক; যাদের কিছুটা তাড়া আছে, কিন্তু তারা আমাকে বুঝতে চান এবং আমার উপস্থাপিত বিষয়সমূহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে চান। আমার নামে গুগলে সার্চ দিয়ে জানার পরিবর্তে আমার নিজের জবানিতেই যেন তারা আমাকে ও আমার চিন্তাকে জানতে পারেন। কেননা, গুগল করা মানে মিলিয়ন লিংকের মুখোমুখি হওয়া, যা মূলত অন্যরা আমার সম্পর্কে লিখেছে। আর তথাকথিত মুক্ত ভার্চুয়াল এনসাইক্লোপেডিয়ার বর্ণনায় সন্তুষ্ট হওয়াও অনুচিত; কারণ, তা আসলে খুবই পক্ষপাতদুষ্ট ও ভুলে ভরা। তাই এখানে আমি পাঠকের সামনে নিজেকে উন্মুক্ত করে দিচ্ছি এবং আমার চিন্তায় সরাসরি প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছি।
সাম্প্রতিক সময়ে আমাকে একজন ‘বিতর্কিত বুদ্ধিজীবী’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই শব্দটি দ্বারা তারা কী বোঝাতে চায়-- তা সুস্পষ্ট নয়। কিন্তু সকলে এ বিষয়ে একমত, একজন বিতর্কিত বুদ্ধিজীবী বলতে তাকেই বোঝায়, যার চিন্তা মানুষকে উদাসীন থাকতে দেয় না; কিছু লোক তার চিন্তার প্রশংসা করে, আর কিছু লোক তার চিন্তার সমালোচনা করে। অধিকন্তু বিতর্কিত বুদ্ধিজীবীর চিন্তা তাদের প্রতিক্রিয়া দেখাতে ও চিন্তা করতে বাধ্য করে।
আমি কখনও কেবল একটি ক্ষেত্রে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখিনি। আমি শুধু ‘ইসলাম ধর্ম’ নিয়ে কাজ করিনি। যদিও এটা উল্লেখ করা জরুরি যে, আমি যেসব বিষয় নিয়ে কাজ করেছি, তন্মধ্যে একটি হলো ইসলামি রেফারেন্সের আলোকে ধর্মতাত্ত্বিক ও আইনি প্রয়োগসংক্রান্ত বিষয়। আমি সকল মুসলিমের প্রতিনিধিত্ব করি না। তবে আমি সংস্কারক ধারার সাথে সম্পৃক্ত।
আমার লক্ষ্য হলো, টেক্সট তথা কুরআন-হাদিসের ভিত্তিতে ইসলামের মূলনীতির প্রতি বিশ্বস্ত থাকা এবং সেইসঙ্গে ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক বিবর্তনকে বিবেচনা করা। বহু পাঠক, যারা এখনও ধর্মীয় ইস্যুসমূহে মনোনিবেশ করেননি অথবা এসব বিষয় সম্পর্কে যাদের জানাশোনা সীমিত, তাদের জন্য আমার দৃষ্টিভঙ্গি ও পদ্ধতি বোঝা কষ্টকর হতে পারে। সংস্কারক ধারার ধারকরা অক্ষরবাদীদের মতো শুধু আয়াত-হাদিসই উপস্থাপন করেন না; বরং তারা এটাকে তার যথার্থ পরিপ্রেক্ষিতে স্থাপন করতে, পরিস্থিতির সাথে সংগতিবিধান করতে এবং নতুন উপলব্ধি উত্থাপন করতে সময় ব্যয় করেন। এই যৌক্তিক বিন্যাস-কাঠামোটিকে বুঝতে হলে পাঠক ও শ্রোতাকে অবশ্যই এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনুসরণ করতে হবে। যদি তারা তা না করেন, তবে তারা এর উপসংহারকে ভুল বুঝবেন এবং ভাববেন-- এতে ব্যাপক বিরোধ আছে কিংবা এটা ডাবল স্পিচ।
কিছু বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন, ‘ডাবল স্পিচ’ হলো একশ্রেণির শ্রোতাকে তোষামোদ করার জন্য কিংবা ভুল পথে পরিচালিত করার জন্য এক রকম কথা বলা, আর অন্যত্র ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ও ভিন্ন শ্রোতাদের সামনে ভিন্ন কথা বলা। শ্রোতার অবস্থানের সাথে অভিযোজন করে কথা বলা কিংবা সুনির্দিষ্ট রেফারেন্সের প্রকৃতির সাথে অভিযোজন করে কথা বলা ‘ডাবল স্পিচ’ নয়। যখন আমি আমার ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে কথা বলি, তখন দার্শনিক রেফারেন্স দিয়ে উচ্চাঙ্গের ভাষা ব্যবহার করিÑ যা তারা বুঝতে পারে। আবার সমাজনেতা কিংবা শ্রমজীবীদের সামনে কথা বলার সময় আমি তাদের উপযোগী ভাষা ব্যবহার করি এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দিই। যখন আমি মুসলিমদের সামনে কথা বলি, তখন তাদের জ্ঞানের লেভেল ও বোঝাপড়ার জগৎকে বিবেচনা করেই কথা বলি। এটা কার্যকর শিক্ষকতার জন্য অপরিহার্য। দ্বিমুখী কথা এড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ডিসকোর্সের সারাংশ পরিবর্তন না করা। ইসলামিক রেফারেন্সের ক্ষেত্রে থিম বিনির্মাণে আমি সব সময় তিনটি স্বতন্ত্র ধাপে অগ্রসর হই।
প্রথম : আমি তথ্যসূত্র উদ্ধৃত করি। বলে দিই, এ বিষেয়ে এই এই আয়াত-হাদিস রয়েছে। আর এর আক্ষরিক অর্থ হলো
এই।
দ্বিতীয় : বিভিন্ন আলিম ও ফকিহদের মতামত উপস্থাপন করি। অতঃপর ইসলামি নীতিমালার
আলোকে এবং এর গঠনপ্রণালির কারণে উল্লিখিত আয়াত বা হাদিসের যেসব সম্ভাব্য ব্যাখ্যার
সুযোগ রয়েছে-- তা তুলে ধরি।
তৃতীয় : আয়াত-হাদিস উদ্ধৃত করে এবং এর বিভিন্ন সম্ভাব্য ব্যাখ্যা উপস্থাপন করার পর আমরা যে পরিবেশে বসবাস করি, সেই প্রেক্ষাপটের আলোকে আমি একটি উপলব্ধি ও প্রায়োগিক দিক উপস্থাপন করি। আমি এটাকেই সংস্কারকসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি বলে অভিহিত করি। যেমন :
(i) বস্তুত স্ত্রীকে প্রহার করার বিষয়ে কিছু টেক্সট আছে (একটি আয়াত ও কিছু সংখ্যক হাদিস)। এটা উল্লেখ করার কারণ হলো-- মুসলিমরা এসব টেক্সটের প্রচুর উদ্ধৃতি দেয়।
(ii) উল্লেখিত বিষয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। অধিকাংশ অক্ষরবাদী কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে স্ত্রী পেটানোকে এক বাক্যে জায়েয বলে। অধিকাংশ সংস্কারক ধারার ধারক বৈশ্বিক বার্তার আলোকে আয়াতটির শানে নুযুল অধ্যয়ন করে। আর তারা নববি প্রথা এবং তাদের সময়ের ক্রমধারাকেও বিবেচনায় রাখে।
(iii) সেসব ব্যাখ্যার আলোকে এবং রাসূল সা. কর্তৃক বাস্তবায়িত উদাহরণ বিবেচনায় নিয়ে, যিনি তাঁর কোনো স্ত্রীকে কখনোই আঘাত করেননি। আমি বলি, পারিবারিক সহিংসতা ইসলামি শিক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক এবং এ ধরনের আচরণকে অবশ্যই নিন্দা করতে হবে।
পাঠক ও শ্রোতারা যদি আমার থিম বিনির্মাণের প্রথম ধাপে এসে থেমে যান (অথবা একজন পর্যালোচক ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি আমার থিমের খণ্ডিত অংশ উদ্ধৃত করেন), তবে তো তারা আমার যুক্তির ক্রমধারাকেই কেটে ফেললেন। এমনকি তারা এও দাবি করতে পারেন যে, অক্ষরবাদীরা যা বলে, আমিও ঠিক তা-ই বলেছি এবং তারা আমাকে ‘ডাবল স্পিচ’-এর অভিযোগে অভিযুক্ত করতে পারেন। অবশ্যই আমি অক্ষরবাদীদের মতো একই আয়াত উদ্ধৃত করেছি, কিন্তু আমার উপসংহার ভিন্ন! আর মানুষ ভুল বোঝে এজন্য যে, আমি নিয়মতান্ত্রিকভাবে তথ্যসূত্র থেকে শুরু করি এবং অক্ষরবাদীদের ব্যাখ্যা উল্লেখ করিÑ যা মুসলিমরা আমার লেকচারে শুনে এবং আমার বইয়ে পড়ে। পরিশেষে, সেগুলোকে তারা আমার বক্তব্যের সাথে সম্পৃক্ত করে ফেলে এবং ভুল বোঝে।
দার্শনিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ইস্যুর ওপরও আমি ফোকাস করেছি (জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় পর্যায়ে)। অধ্যয়নের এসব বিষয়সমূহ অবশ্যই কোনো না কোনোভাবে পরস্পর সংযুক্ত। কিন্তু এগুলোর বিন্যাসে যেন কোনোরকম তালগোল তৈরি না হয়, সে বিষয়ে আমি সব সময় সতর্ক ছিলাম। সামাজিক সমস্যাসমূহ (আইডেন্টিটি, ধর্ম, সংস্কৃতি, নিরাপত্তাহীনতা, অভিবাসন, প্রান্তিকতা ইত্যাদি) সম্পর্কে সমকালীন ডিবেটগুলোতে যে অস্পষ্টতা পর্যবেক্ষণ করেছি, আমি সেসব সমস্যাবলির ব্যবচ্ছেদ ও অস্পষ্টতা দূরীকরণের চেষ্টা করেছি। যদিও এসব সমস্যাবলি থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়েই আমি তা করেছি। আমার প্রত্যাশা, বইটি এই অঙ্গীকার (কমিটমেন্ট), দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মপন্থাকে সফল করবে।
যেমন আমি ওপরে উল্লেখ করেছি, কিছু লোক কোনো স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই দাবি করে যে, আমি দ্বিমুখী কথা বলি। এই গুজবটি ডালপালা বিস্তার করেছে আর সাংবাদিকরা এর পুনরাবৃত্তি করে বলেÑ তার বিরুদ্ধে দ্বিমুখী কথা বলা এবং ইত্যাদি ইত্যাদি অভিযোগ রয়েছে। এটা একটা সস্তা সমালোচনা। এটা প্রায়শ সেসব লোকদের অপ্রমাণযোগ্য (এবং অপ্রমাণিত) বিতর্ক-- যাদের কোনো যুক্তি নেই এবং তারা কিছুই প্রমাণ করতে পারেনি। এটা তাদেরও একটি সুচতুর অভিযোগ, যারা ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘ডাবল হিয়ারিং’-এ অভ্যস্ত এবং যারা খুবই একপেশেভাবে শ্রবণ করে।
আমি এখানে আত্মপক্ষ সমর্থন করার প্রচেষ্টায় সময় নষ্ট করব না। আর আমার এই ইচ্ছা বা সময় কোনোটিই নেই। তবে আমি যা বলি, তা কেন এরূপ আবেগ ও প্রতিক্রিয়া তৈরি করে-- পাঠকদের তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। আমি জানি যে আমি বিরক্ত করছি। আর এও জানি, আমি কাকে বিরক্ত করছি। যখন আমি সমস্যাসংকুল, সংকটময় ও সংশয়কালীন সময়ে ধর্ম, দর্শন ও রাজনীতি নিয়ে কথা বলছি, তখন আমিই আমার বুদ্ধিবৃত্তিক ও আদর্শিক বিরোধিতার দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছি। আর এটা প্রায়শ অতিমাত্রার বাজে আবেগাত্মক অনুভূতির তৈরি করেছে।
বইয়ের শেষদিকে পাঠক দেখতে পাবেন, আমি বিরোধিতার সাতটি ভিন্ন উদ্দেশ্য চিহ্নিত করেছি। বস্তুত তাদের প্রত্যেকের সমালোচনা একে অন্যের মধ্যে প্রতিধ্বনি তুলছে এবং আমার ডিসকোর্সের ওপর তাদের মনে সন্দেহ ও সংশয়ের কুয়াশা তৈরি করেছে। কিছু মানুষ আমার লেখা না পড়ে এসব সমালোচনা পড়ে। এমনকি এসব সমালোচনার লেখক কারা, তারা তাও বুঝতে চেষ্টা করে না। পরিশেষে, সেসব লেখকদের সমালোচনাকেই তারা আমার ওপর আরোপ করে। যেহেতু সেখানে ধোঁয়া উড়ছে, তাই সেখানে আগুনও আছে (যা কিছু রটে, তার কিছু না কিছু ঘটে)-- এই প্রচার চলমান। এটা অবশ্যই সত্য, কিন্তু আমাদের এও বোঝা উচিতÑ আগুনটি কী, আর কে তা প্রজ্জ্বলিত করেছে।
যাহোক, এই ধূম্রজালের পেছনে মূলত যা নিহিত আছে, যা সমালোচকদের পরম লক্ষ্য, আমার চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির সারমর্ম বোঝা থেকে মানুষকে সরিয়ে রাখা। এই বইয়ে আমি পরিচয় সংকট (Identity Crisis) ও সংশয় নিয়ে আলোচনা করব, যা আমাদের প্রত্যেককে জর্জরিত করছে। আমি দৃঢ়তার সাথে বলছি, আমাদের বহুবিধ পরিবর্তনশীল পরিচয় আছে। ধর্মীয়, আইনি ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে একজন নারী কিংবা পুরুষ একই সাথে আমেরিকান ও মুসলিম অথবা ইউরোপিয়ান ও মুসলিম হতে কোনো বাধা নেই। লাখ লাখ মানুষ এটা প্রতিনিয়ত প্রমাণ করে চলেছে। মিডিয়া ও রাজনৈতিক উত্তেজনার বাইরে একটি গঠনমূলক ও গভীর আন্দোলন তার আপন গতিপথে বয়ে চলছে এবং ইসলাম পাশ্চাত্যেও একটি জোরালো ধর্মে পরিণত হয়েছে। পাশ্চাত্য ইসলাম একটি বাস্তবতা; ঠিক আফ্রিকা, আরব কিংবা এশিয়ার ইসলামের মতোই। নিঃসন্দেহে ইসলাম একক আর তাতে রয়েছে মৌলিক ধর্মীয় নীতিমালা। কিন্তু এটি ধারণ করে বিচিত্র ব্যাখ্যা ও সাংস্কৃতিক বহুত্বকে। মৌলিক একত্বের মধ্যে বৈচিত্র্যকে অন্তর্ভুক্ত করার সক্ষমতাই ইসলামকে সার্বজনীন করেছে।
মুসলিমদের দায়িত্ব হলো প্রতিশ্রুতিশীল নাগরিক হওয়া এবং দায়িত্ব ও অধিকারের বিষয়ে সচেতন হওয়া। সংখ্যালঘু চিন্তার বাইরে এসে এবং নিজেদের ভিকটিম হিসেবে দেখার প্রলুব্ধি থেকে বেরিয়ে এসে, ইতিহাসের এক নতুন যুগকে আলিঙ্গন কারার সুযোগ তাদের রয়েছে। যারা পশ্চিমে জন্মগ্রহণ করেছে বা পশ্চিমের নাগরিক, এটা তাদের জন্য এখন আর থিতু হওয়া কিংবা অন্তর্ভুক্তির প্রশ্ন নয়; বরং এখন অংশগ্রহণ ও অবদান রাখার পালা। আমার বক্তব্য হলো, আমরা ইতোমধ্যে ইন্টিগ্রেশন তথা অন্তর্ভুক্তির ডিসকোর্স অতিক্রম করে ফেলেছি। এবার আমাদের অবশ্যই অন্তর্ভুক্তি-উত্তর ডিসকোর্সের যুগে প্রবেশ করতে হবে। সে লক্ষ্যে সম্পৃক্ততার (Belonging) একটা প্রজ্ঞাদীপ্ত ও গৃহীত অর্থ বিনির্মাণ করতে হবে। এ হলো এক নতুন 'বি' (আমরা)-- যার জন্য আমি আহ্বান করে আসছি। আর তা ইতোমধ্যে কিছু স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবতায় পর্যবসিত হয়েছে।
যাহোক, আমাদের বোকাসোকা হয়ে বসে থাকলে চলবে না। গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জসমূহ অবশিষ্ট রয়ে গেছে। আমি মুসলিমদের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু চ্যালেঞ্জের তালিকা করেছি (ধর্ম ও সংস্কৃতির মধ্যকার সম্পর্ক, জেন্ডার ইস্যু, ইমামদের প্রশিক্ষণ, পরিপ্রেক্ষিতের আলোকে ধর্মীয় শিক্ষা, সমাজে মুসলিমদের উপস্থিতির প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান ইত্যাদি)। পশ্চিমা ও ইউরোপীয় সমাজ, তাদের রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের অবশ্যই বাস্তবতা উপলব্ধি করা প্রয়োজন এবং চতুর্থ প্রজন্মের পরও কিছু ক্ষেত্রে বলা হয়, এসব নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রয়োজন। তাদের অভিবাসী শেকড় সম্পর্কে কথা বলা বন্ধ করুন। তাদের অবশ্যই নিজেদের রাজনীতির সাথে সংগতি বিধান করতে হবে; যদিও তারা তা করে না।
সামাজিক সমস্যাকে ইসলামিকরণ করা অনুচিত। বেকারত্ব, সামাজিক অবমূল্যায়ন ও অন্যান্য ইস্যুগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত। পাঠ্যক্রমকে অবশ্যই পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে (বিশেষ করে ইতিহাস, তেমনি সাহিত্য ও দর্শনকেও), যাতে সার্বজনীন ইতিহাস আরও অধিকতর প্রতিনিধিত্বমূলক হয়। আর এতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা। পাশ্চাত্যকে অবশ্যই একটি সংলাপ চালু করতে হবে; শুধু অন্যের সাথে নয়, বরং নিজেদের অভ্যন্তরেওÑ একটি আন্তরিক, প্রগাঢ় ও গঠনমূলক সংলাপ।
আর সেসব ইস্যুই আমি এ বইয়ের সর্বত্র আলোচনা করব। সাধারণ ও পদ্ধতিগত দিক রক্ষা করে আমি যথাসম্ভব স্পষ্টভাষী হতে চেষ্টা করেছি। এটা আইডিয়ার একটি বই, আমি যা বিশ্বাস করি তার ভূমিকা। এই বইটি তাদের জন্য, যারা সত্যি ও যথার্থভাবে আমাকে ও আমার চিন্তাকে বুঝতে চায়, কিন্তু যাদের আমার সবগুলো বই পড়া ও অধ্যয়ন করার মতো যথেষ্ট সময় নেই। এটা পরিচিতিমূলক বই হওয়াতে জটিল চিন্তার খোরাক জোগাতে পর্যাপ্ত না-ও হতে পারে। কিন্তু আমি আশা করি, অন্ততপক্ষে এটা একটি উন্মুক্ত, বিস্তৃত ও পর্যালোচনাধর্মী ডিবেটের পথ সূচনা করবে। আর তা খুবই প্রয়োজন।
(‘ডিসকোর্স’ পরিভাষাটি ব্যাপক অর্থবোধক। এটি এখানে ‘বক্তব্য’ অর্থে ব্যহৃত হয়েছে। ডিসকোর্স অর্থ কথা, আলোচনা, পর্যালোচনা। কখনও কখনও কর্তৃপক্ষসুলভ লেখনিকেও বোঝানো হয়।)
প্রকাশিত বই
-
-
-
ইসলাম ও শিল্পকলা
৳ 190 -
এইম ফর দ্যা স্টারস
৳ 260 -
-
-
লাভ এন্ড রেসপেক্ট
৳ 320 -
-
-
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *